কলাপাড়ায় ভূমিহীন ১৩৬পরিবারকে পুনর্বাসনের দাবিতে..

প্রকাশ: 27 November 2023 । 17:16 | আপডেট: 27 November 2023 । 17:16

রাসেল কবির মুরাদ, কলাপাড়া করেসপন্ডেন্ট, পটুয়াখালীঃ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ভূমিহীন ১৩৬পরিবারেকে পুনর্বাসনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ২৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাব চত্তরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য ইব্রাহিম শিকারী, বাউল ফিরোজা বেগম, মো. ফোরকান হাওলাদার, নুর হোসেন, ইব্রাহিম, জেসমিন, আলো বেগম, আনোয়ার মিরা, রাসেল এবং সঞ্চালনা করেন কলাপাড়া পরিবেশ ও জন সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য মো. সগির হোসেন।

এসময়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা কলাপাড়ায় নির্মানাধীন অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্থদের ন্যায় পুনর্বাসনের দাবি জানান। তারা বলেন, আমরা বাস্তুভিটাহীন হওয়ার কারণে সরকার আমাদেরকে বসবাসের জন্য ইটবাড়িয়া গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধের ঢালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে কলোনী করে বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। যার পর থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করে আসছি। সম্প্রতি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল থেকে পায়রা বন্দর প্রশাসনিক ভবন হয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক সড়কের সাথে যুক্ত হওয়ার বিকল্প সড়ক হিসাবে পায়রা বন্দরের গেট থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই রাস্তা নির্মাণ করতে আমাদের কলোনীসহ বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাসকারী ১৩৬টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ফলে ভূমিহীন মুক্ত কলাপাড়ায় আমরা নতুন করে ভূমিহীন হতে যাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা আরো বলেন, আমরা বেড়িবাঁধের বাইরের দিকে বসবাস করার ফলে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং বর্ষাকালে জোয়ার-ভাটার পানিতে প্লাবিত হওয়া আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তারপরও মাছ ধরে, ইট ভাটায় কাজ করে, নির্মাণ শ্রমিক এবং কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে টানা-পোড়েনের মধ্যে দিয়ে জীবনধারণ করে থাকি। নিজের কোন জমি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা বেড়িবাঁধের ঢালে বসবাস করে আসছিলাম। যেহেতু এই জমির মালিক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, তাই আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারালে আমাদের জীবন-যাত্রা স¤পূর্ণভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। উচ্ছেদের পরে আমরা কোথায় থাকবো, কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

এসময় বক্তারা আরো বলেন. কলাপাড়ায় বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে পায়রা বন্দরে ক্ষতিগ্রস্থ ৩,৪২৩ টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারকে স্বপ্নের ঠিকানা নামক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিএল) এর ক্ষতিগ্রস্ত ২৮১টি পরিবারের জন্য ‘আনন্দপল্লী’ এবং স্বপ্ননীড় নামে দুইটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্মাণ করা হয়েছে। একইসাথে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট সুপারথার্মাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (আশুগঞ্জ) নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮০টি পরিবারের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। অন্যদিকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও কোন ধরনের পুনর্বাসন, ক্ষতিপূরণ অথবা সহযোগীতা করা হচ্ছে না। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হলে ভূমিহীন মুক্ত কলাপাড়ায় নতুন করে প্রায় দেড়শো পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ ২০৩/এ পশ্চিম নাখালপাড়া, তেজগাঁও , ঢাকা -১২১৫.

error: Content is protected !!