কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটনের আশা করছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
শনিবার বিকেলে পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আইফোন নেওয়ার জন্যই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা হবে। জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পুলিশ জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, তুহিন নামে এক যুবক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল থেকে ওই যুবক তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন।
শনিবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার দক্ষিণ মোড়ের দক্ষিণ পাশে একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল হাকিম জানান, অপ্রতীমকে উদ্ধারে পুলিশ, ডিবি ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন