চায়ের রাজধানীখ্যাত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দিন দিন বাড়ছে লোকালয়ে সাপের আনাগোনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই সাপ উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে অজগর সাপের উপস্থিতি এখন বেশ লক্ষণীয়।
গত তিন মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি আগস্ট মাসেই উদ্ধার হয়েছে ১৮টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উদ্ধার করা সাপগুলো পরে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টারে গিয়াস উদ্দিনের বাড়ির গোয়ালঘরে ঢুকে পড়ে একটি অজগর সাপ। এ সময় অজগরটি গোয়ালঘরে থাকা একটি মুরগিকে গিলে খেয়ে ফেলে। অজগরটি দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বিশেষ কৌশলে অজগরটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরে উদ্ধার করা অজগর সাপটি শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, গত তিন মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৪০টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি আগস্ট মাসেই ১৮টি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে অজগরের সংখ্যাই বেশি।
বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রীমঙ্গল বনাঞ্চল, চা-বাগান, টিলা, ছড়া ও জলাভূমিবেষ্টিত একটি এলাকা। এসব স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের স্বাভাবিক আবাসস্থল রয়েছে। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও আবাসস্থলে পানির চাপ বাড়ায় সাপ অনেক সময় নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে।
এ ছাড়া চা-বাগান ও বনাঞ্চলের আশপাশে ইঁদুর, ব্যাঙ, পাখি ও অন্যান্য ছোট প্রাণীর উপস্থিতি থাকায় এসব এলাকায় সাপের স্বাভাবিক খাদ্যও সহজলভ্য। ফলে মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষিজমির কাছাকাছি সাপের দেখা মেলার সম্ভাবনা থাকে।
বিষধর ও নির্বিষ—উভয় ধরনের সাপই প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে সাপের ভূমিকা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে এটি জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিকও তুলে ধরছে। বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টদের মতে, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা এবং নিরাপদ উদ্ধার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
মন্তব্য করুন