বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদ্‌রোগ। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বাংলাদেশেও হৃদ্‌রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জ্যাক উলফসন মনে করেন, হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে শুধু কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিলেই হবে না। খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, মানসিক সুস্থতা, রক্তচাপসহ সামগ্রিক জীবনযাপনকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ডা. উলফসন হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কোলেস্টেরলের পাশাপাশি জীবনযাপনের অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনার পরামর্শ দেন। তার মতে, শুধু কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোই হৃদ্‌রোগের সামগ্রিক ঝুঁকি নির্ধারণের একমাত্র বিষয় নয়।

কোলেস্টেরলের বাইরেও নজর

ডা. উলফসনের মতে, একজন মানুষের হৃদ্‌স্বাস্থ্য মূল্যায়নের সময় তার খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, জীবনযাপনের ধরন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ব্যক্তির বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে স্ট্যাটিন ওষুধ নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া উচিত নয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে স্ট্যাটিন হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর হতে পারে। তাই ওষুধ শুরু, বন্ধ বা পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধে তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ওজন, ঘুম, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য ঝুঁকি—সবকিছুকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।