মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি বসতবাড়ির আঙিনা থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনপ্রাণী বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গভীর রাতে বাড়ির আঙিনায় বিশালাকৃতির সাপটি দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া মাঝেরগাঁও এলাকার রিপন দেবের বাড়ির আঙিনায় হঠাৎ অজগরটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সাপটি দেখে তারা ঘরের বাইরে বের হতে সাহস পাননি এবং নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়ে দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। কিছু সময়ের চেষ্টায় তারা অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সুস্থ ছিল এবং তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরে সাপটিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করার লক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে বসতবাড়ির আঙিনায় এত বড় একটি অজগর দেখে তারা ভীত হয়ে পড়েন। তবে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পান।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “বন্যপ্রাণী আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা বা আঘাত না করে দ্রুত ববন্যপ্রাণী বিভাগ কিংবা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া উচিত। এতে মানুষ ও প্রাণী—উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

বনপ্রাণী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অজগর বাংলাদেশের সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর অন্যতম। বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় খাদ্যের সন্ধান কিংবা আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে মাঝে মধ্যে এ ধরনের সাপ লোকালয়ে চলে আসে। এ অবস্থায় সচেতনতা ও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমই সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।