মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমধর্মী দুই মাসব্যাপী ‘বইপড়া উৎসব-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গলের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে মাধ্যমিক ও সমমান, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং উন্মুক্ত বিভাগে মোট ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করবে।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, চারটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত এই উৎসব তিনটি ধাপের মুকুল, ফুল ও ফল-বিভক্ত। প্রতিটি ধাপে প্রতিযোগীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে নির্বাচিত গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা পরবর্তী ধাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

প্রথম ধাপ ‘মুকুল’-এর জন্য আয়োজকরা বিভিন্ন শ্রেণির উপযোগী মোট ১৫টি বই নির্বাচন করেছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী এসব বই পাঠ শেষে আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেবে।

লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল’-এ নতুন একটি বই পাঠ করে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপ ‘ফল’-এ উপজেলা পর্যায়ে আরও একটি নতুন বইয়ের ওপর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

অর্থাৎ, একজন প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে মোট তিনটি ভিন্ন বই পাঠ করে ধারাবাহিকভাবে তিনটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এ অভিনব আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গলজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বইপড়া নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। উৎসব বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাস, সমন্বয়কারী খাদিজা আক্তার রিয়া, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আতাউর রহমান কাজলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুধীজন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বইপড়ার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি, এই উৎসব শ্রীমঙ্গলে বইপড়ার একটি স্থায়ী সংস্কৃতি তৈরি করবে এবং শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চার বিস্তৃত জগতে নিজেদের সম্পৃক্ত করবে।”