স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন “আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের অন্তত ৪টি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত নিউরো ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের। হাসপাতালের চমৎকার ভবন বা আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সুনাম হয় না; আসল সুনাম ও শক্তি আসে তা ব্যবহার করার মতো দক্ষ জনবল, চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের নতুন ভবনের প্রাক-উদ্বোধনী পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। শীঘ্রই হাসপাতালটির নবনির্বিত ভবনে সেবা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগামী ১৫ জুলাই এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও হাসপাতালে পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের ২০ কোটি মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার জন্য জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানান।

একই সাথে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে দেশের অন্তত ৪টি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত নিউরো ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকার বাইরে যাচ্ছে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের (Decentralization) মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে দেশের ২০ কোটি মানুষের জন্য সমান ক্লিনিক্যাল সার্ভিস নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য অর্জনে শুধু ঢাকায় একটি মাত্র ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস কখনোই যথেষ্ট নয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী যখনই আমার ও মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন, ওনার মূল প্রিন্সিপাল থাকে স্বাস্থ্যসেবাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা। যে সেবা আগে শুধু ঢাকায় পাওয়া যেত, তা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা ইনভিশন করছি, আগামী ১-২ বছরের মধ্যে দেশের অন্তত ৪টি বিভাগীয় শহরে এই ধরনের বিশেষায়িত ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।”

‘ইনস্টিটিউট মানে শুধু ইট-পাথরের বিল্ডিং নয়’

নতুন হাসপাতাল গড়ার ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার উদ্যোগ নিয়ে বাজেট দিতে পারবে, নতুন বিল্ডিং বানাবে, যন্ত্রপাতিও কিনে দেবে। কিন্তু ইনস্টিটিউট কখনো ইনস্টিটিউট হয়ে উঠবে না, যদি না আপনারা নেক্সট জেনারেশনের ডাক্তারদের বিশেষজ্ঞ হিসেবে সঠিক সময়ে প্রশিক্ষিত করতে পারেন। ভবন আর যন্ত্রপাতির পেছনে এক বা একাধিক দেশপ্রেমিক চিকিৎসকের লিডারশিপ দরকার, তবেই প্রতিষ্ঠান বিকশিত হয়।”

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-কে একটি ‘সেন্টার অব এক্সসেলেন্স’ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘রোল মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করে পুরো টিমকে অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী খুব দ্রুত এই হাসপাতালে উদ্বোধনের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেষ “এই উদ্বোধন শুধু এই ইনস্টিটিউটের জন্য নয়, এটি স্বাস্থ্যখাতের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর গভীর আগ্রহ ও কমিটমেন্টের প্রকাশ। এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য দেখে প্রধানমন্ত্রী আরও উজ্জীবিত হবেন এবং স্বাস্থ্যখাতে আরও বেশি রিসোর্স (বাজেট) আসবে। আমাদের চিকিৎসকরা বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন এবং সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা অন্য এক মাত্রায় পৌঁছাবে।”

প্রতিমন্ত্রী ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও বেশি একাডেমিক, ক্লিনিক্যাল এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ লিডার বা নেতা তৈরি হবে—যারা দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নেতৃত্ব দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।