দীর্ঘ ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবন শেষে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) অবসরে গেলেন শ্রীমঙ্গল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহির আলী।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর নিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এক আন্তরিক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, সুধীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হুগলিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান, ভিক্টোরিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী, কাকিয়াবাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ সিদ্দিকী, উদয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবিতা রানী দাস, সাবেক প্রধান শিক্ষক প্রভাসিনি সিনহা, দশরথ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঝলক চক্রবর্তী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, মো. জহির আলী শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষাগুরু, দক্ষ সংগঠক ও স্নেহময় অভিভাবক। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর সততা, কর্মনিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষার প্রতি নিবেদন বিদ্যালয়ের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। অবসরে গেলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আগামী দিনেও সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

নিজের বক্তব্যে মো. জহির আলী বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা সংশ্লিষ্ট সবাই এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনে সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও তিনি শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মো. জহির আলীর হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসরজীবন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বিদায়বেলায় সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে উপস্থিত সবার মধ্যে এক ধরনের বিষণ্নতার আবহ লক্ষ্য করা যায়।