ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোলা–১ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অপ্রত্যাশিত ভাবে নতুন ঘোষিত মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি আন্দালিব রহমান।

আন্দালিব মন্ত্রিসভায় স্থায় না পাওয়ায় ভোলা তার নিজ নির্বাচনী আসনসহ সারাদেশে চলে আলোচনা, সমালোচনা। তার নির্বাচনী এলাকায় এ নিয়ে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ।

এদিকে ভোলা সদর আসনে অনেকটা নাটকিয় ভাবে বিএনপির প্রথমে ঘোষিত প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর কে হটিয়ে শেষ সময়ে প্রার্থীতা বাগিয়ে নেন আন্দালিব রহমান। সে সময়ে গোলাম নবী আলমগীরের সমর্থকরা প্রার্থিতা ফিরে পেতে রাজপথে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেও সুবিধা করতে পারেনি কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের কারনে। সে সময় আন্দালিব রহমানের সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আন্দালিব রহমানের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে বলে জোর প্রচারণা চালান।

নির্বাচনে জয়লাভের পর স্থানীয় পর্যায়ে পার্থকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর প্রত্যাশা তৈরি হয়। তিনি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং দলীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর আইনজ্ঞ পরিচিতি ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মন্ত্রিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল।

এদিকে সরকার গঠনের পর ঘোষিত মন্ত্রিসভার তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় বিষয়টি জাতীয় মিডিয়ায় গুরুত্ব পায়। একাধিক জাতীয় দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মন্ত্রিসভায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ও দলীয় ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

জোটগত সমীকরণ ও রাজনৈতিক কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করায় আন্দালিবের নাম আসেনি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

পার্থকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করাকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন কোনো কোণো বিশ্লেষক।

এদিকে মন্ত্রিসভায় আন্দালিব রহমানের নাম না থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় নেতা-কর্মী মনে করছেন, মন্ত্রী হলে ভোলা জেলায় বড় অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসত। অন্যদিকে অনেকে বলছেন, সংসদ সদস্য হিসেবেও তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠন সবসময়ই একটি কৌশলগত প্রক্রিয়া। এতে দলীয় ভারসাম্য জোট রাজনীতি জটিল সমীকরণ জড়িত বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

এদিকে ভোলা–১ আসনের জনগণের প্রত্যাশা থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় আন্দালিব রহমান পার্থ সংসদ সদস্য হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন বা বিশেষ দায়িত্বের মাধ্যমে তাঁর ভূমিকা বিস্তৃত হতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক অঙ্গন তথা ভোলা সদর আসনের জনগণের এখন দেখার অপেক্ষায় —এই সিদ্ধান্ত ভোলার স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং পার্থ আগামী দিনে কী কৌশল অবলম্বন করে স্থানীয় রাজনীতি এগিয়ে নেন।