পটুয়াখালীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চারটি আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলার ৫১৩টি ভোটকেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২০৪টি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চারটি আসনে মোট ৫১৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী–১ আসনে ১৬৩টি, পটুয়াখালী–২ আসনে ১১১টি, পটুয়াখালী–৩ আসনে ১২৪টি এবং পটুয়াখালী–৪ আসনে ১১১টি কেন্দ্র। সব কেন্দ্রেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনায় ২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৩৭ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৫১৩ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ১ হাজার ২৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ২ হাজার ৫২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতি উপজেলায় দুই প্লাটুন করে আট উপজেলায় মোট ২০ প্লাটুন সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ১ হাজার ৫৬১ জন পুলিশ, ৬৫ জন র্যাব সদস্য, ২০ প্লাটুন ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬ হাজার ৬৬৯ জন সাধারণ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২০৪টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পটুয়াখালী–১ (সদর–মির্জাগঞ্জ–দুমকি) আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৬টি, মির্জাগঞ্জে ২৩টি এবং দুমকিতে ৬টি কেন্দ্র রয়েছে।
পটুয়াখালী–২ (বাউফল) আসনে মোট ১১৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ।
পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি ঝুঁকিপূর্ণ; গলাচিপায় ৬১টি ও দশমিনায় ১৯টি।
পটুয়াখালী–৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী–মহিপুর) আসনে ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কলাপাড়ায় ১৫টি, রাঙ্গাবালীতে ৯টি এবং মহিপুর থানায় ৫টি কেন্দ্র রয়েছে।
জেলার চারটি আসনে ৫টি পৌরসভা, ৮টি উপজেলা ও ১টি থানার ৭৭টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৬। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৯৮৬ এবং নারী ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৫ জন। হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৮ জন। পোস্টাল ভোটার আছেন ১১ হাজার ৭০৫ জন; এর মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৩৭২ ও নারী ২ হাজার ১৩৩ জন।
আসনভিত্তিক ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী, পটুয়াখালী–১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫ হাজার ৮৩৫ জন। পটুয়াখালী–২ আসনে ৩ লাখ ১৫ হাজার ২৮২, পটুয়াখালী–৩ আসনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ এবং পটুয়াখালী–৪ আসনে ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০১ জন ভোটার রয়েছেন।
চারটি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে পটুয়াখালী–১ আসনে ৬ জন, পটুয়াখালী–২ ও –৩ আসনে ৫ জন করে এবং পটুয়াখালী–৪ আসনে ৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন