আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে সহিংসতা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটের দুই প্রার্থী। পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী-৩ আসনের (গলাচিপা–দশমিনা) বিএনপির জোট মনোনীত ট্রাক মার্কার প্রার্থী নুরুল হক ওরফে ভিপি নূর অভিযোগ করেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া মার্কার সমর্থকরা ওই আসনের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে তার সমর্থকদের নির্বাচনী ক্যাম্প ও বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছে। অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনার পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভিপি নূর বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অবহিত করা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে কি না—এ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে পটুয়াখালী-১ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল মার্কার প্রার্থী প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ও নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে লোপাট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের একটি অংশ পটুয়াখালী জেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীদের চলাচল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে, অথচ অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

লিখিত বক্তব্যে ডা. মিনার বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে দায়বদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে ১১ দলীয় জোট কাজ করছে। তবে পেশিশক্তি ও কালো টাকার প্রভাবে একটি পক্ষ আবারও আগের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যেতে চাইছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, বিলবোর্ড ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সভাপতির ওপর হামলা এবং ঈগল মার্কার এক সমর্থকের দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার দাবি, মির্জাগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে ভোটার ও এজেন্টদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ এবং নারী ভোটারদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে দুই প্রার্থীই বলেন, সব অনিয়ম ও সহিংসতার জবাব জনগণ আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমে দেবে। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ভূমিকার দাবি জানান।