পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে হামিদা আক্তার কুলসুম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী মোঃ সাইমন (২৫) পলাতক রয়েছেন। সাইমন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার চাষাপাড়া এলাকার মো. কামাল উদ্দিনের ছেলে। নিহত হামিদা আক্তার কুলসুম উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের আনসার আলী গাজীর মেয়ে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর পিতা মোঃ আনসার আলী গাজী সাইমনকে প্রধান আসামী করে মির্জাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং -০২/২০২৬
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে গৃহবধূ কুলসুম তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে স্বামী সাইমন শ^শুর বাড়ীতে বেড়াতে আসেন। ঘটনার দিন রবিবার (০৪ জানুয়ারি) রাতে কুলসুম সাইমন দম্পতি ঘরের দোতলায় অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন দোতলায় গিয়ে রুমের বিছানার উপর কুলসুমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং সাইমন সেখান থেকে পালিয়ে গেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, সাইমনের সঙ্গে হামিদা আক্তার কুলসুমের এক বছর পূর্বে বিবাহ হয়, এটি কুলসুমের দ্বিতীয় বিয়ে। কুলসুমের প্রথম সংসারের ৪ বছর বয়সি একটি ছেলে রয়েছে।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ ওয়ারেচ খান গৃহবধূ কুলসুমকে শ^াসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আঃ ছালাম জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছি । লাশের পাশে পড়ে থাকা একটি ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে কুলসুমকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কুলসুমের ঘাড়ে দাগ ও রক্তের আলামত রয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত করেই হত্যাকারী পালিয়ে গেছে। ঘাতক সাইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন