বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ‘নষ্ট’ করার জন্য এই সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে আন্দোলন করা বিএনপিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। এখন নির্বাচন তার আলোকেই হবে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলো গণতান্ত্রিক ধারাকে ‘নষ্ট করার জন্য’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। বিরোধী দলগুলো ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের ‘ধরপাকড়’ ও জরুরি অবস্থায় ফিরে যেতে চায় কি না, সে প্রশ্নও তিনি রেখেছেন।
সুইজারল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে ২১ জনু, গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসে নির্বাচনকালীন সরকার এবং বিরোধীদের আন্দোলন নিয়ে এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদেশে সফর শেষে সরকারপ্রধান সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের ডাকেন। তাতে সফরের একটি লিখিত বিবরণ যেমন থাকে, তেমনি প্রশ্নোত্তরে উঠে আসে সাম্প্রতিক আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা। জানা যায় সরকারের অবস্থান, উঠে আসে তাদের পরিকল্পনা, বিরোধী দলের সম্পর্কে মনোভাব।
সাংবাদিকদের একটি প্রশ্ন ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপির দাবির বিষয়ে। এ সরকার ব্যবস্থা ছাড়া দলটি ভোটে অংশ না নেওয়ার, এমনকি ভোট হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনকালীন সময়ে আমাদের বিরোধী দল থেকে নানা রকম প্রস্তাব… এখন আবার তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়, যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে খালেদা জিয়ারই উক্তি ছিল যে, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।
“একবার যেটা তারাই বাদ দিয়েছে, এই পদ্ধতিটা তারাই নষ্ট করেছে, তারাই কিন্তু এটা রাখেনি, সেটাকে আবার তারা ফেরত চাচ্ছে।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আদালতের রায়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন আওয়ামী লীগ প্রধান। তিনি বলেন, “উচ্চ আদালতের রায় আছে এবং সেই মোতাবেক আমাদের সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে যে, একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান আরেকজন নির্বাচিত সরকার প্রধান দ্বারাই প্রতিস্থাপিত হবেন। এর বাইরে অনির্বাচিত কেউ আসতে পারবে না।”
বিরোধী দলগুলোকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা (বিএনপি) কি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চান? অর্থনৈতিক উন্নতি চান? দেশের মানুষের কল্যাণ হোক সেটা চান?
“নাকি আবার সেই ২০০৭-এর মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আবার সেই ইমার্জেন্সি, আবার সেই ধরপাকড় সেইগুলি চায়? এটা তো দেশের মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।”
মন্তব্য করুন