গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় অংশীজনদের সাথে এক প্রচার-প্রচারণামূলক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক জনাব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার পটুয়াখালীর উপপরিচালক (উপসচিব) জনাব জুয়েল রানা।

সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন। গ্রাম আদালত প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার জনাব রকিবুল ইসলাম জেলার গ্রাম আদালতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে।

পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি গ্রাম আদালতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকরী মাধ্যম। তিনি জেলা প্রশাসককে গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক জনাব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “গ্রাম আদালত কার্যকর হলে স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসা সম্ভব হবে, উচ্চ আদালতের উপর চাপ কমবে এবং জনগণ সহজে ন্যায়বিচার পাবে।” তিনি জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী ও ইউপি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রচার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “গ্রাম আদালত একটি সুন্দর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে জনগণ দ্রুত ও কম খরচে বিচার পেতে পারে। সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং বাস্তবায়নে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।”

সভায় বক্তারা গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে আরও বেশি প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।