বরিশালের গৌরনদীতে নগদ ডিস্টিবিউটর সেক্টরের ম্যানেজার কাওছার খন্দকার (৩৩) রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডায়রি দায়ের করা হয়েছে। নিখোঁজের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ম্যানেজারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সে (কাওছার) উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধানডোবা গ্রামের মজিবুর রহমান খন্দকারের ছেলে ও নগদ ডিস্টিবিউটর সেক্টরের গৌরনদী অফিসের ম্যানেজার ছিলেন।
গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের ইসলাম সান্টু ভূইয়া অভিযোগ করে বলেন, গৌরনদী পৌরসভার উত্তর বিজয়পুর এলাকায় আমার বসত বাড়ির নিচতলায় নগদ ডিস্টিবিউটরের অফিস রয়েছে আমার। ওই অফিসের অধীনে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর থানা এলাকায় নগদ ডিস্টিবিউটরের কাজ করা হচ্ছে। গত ৩ বছর ধরে আমার অফিসে নগদ ডিস্টিবিউটর সেইবের ম্যানেজার হিসেবে কাওছার খন্দকার কাজ করে আসছিল।
গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমি ম্যানেজার কাওছার খন্দকারের কাছে নগদ ব্যবসার হিসাব চাই। তখন সে (কাওছার) প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাব দিতে পারে নাই। ওইদিন সন্ধ্যায় হিসাব নিকাশ করে সমস্ত টাকা বুঝিয়ে দিবে বলেন। ওইদিন সন্ধ্যায় আমি ম্যানেজার কাওছারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে আমি কাওছার খন্দকারের স্ত্রী লাইজু আক্তার ও ভাই শরীফ খন্দকারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারাও কাওছারের সন্ধান দিতে পারেন নাই। নগদ ডিস্টিবিউটর সেক্টরের ম্যানেজার কাওছার খন্দকার প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাব না দিয়ে আত্মগোপন করেছে।
এ ঘটনায় আমি ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘৌরনদী থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেছি। নিখোঁজ ম্যানেজারে সহোদর ভাই শরীফ খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই কাওছার খন্দকারকে অপহরণ করে ভাবির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরনকারীরা। মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে গৌরনদী থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর থানার পুলিশের সহযোগীতায় গতকাল শনিবার ভোররাতে সখীপুরের কুতুবপুর ইউনিয়নের চিতারচার গ্রামে অভিযান চালিয়ে জয়নাল আবেদীনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৫)কে আটক করে সখীপুর থানায় এনে জিঞ্জাসাবাদের পর বিকালে তাকে (আনোয়ার) ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
গৌরনদী থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান, ভ্যান চালক আনোয়ার হোসেনের মিস কল কাওছারের স্ত্রীর মোবাইল ঢুকলে সে (আনোয়ার) বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতে তিনবার কথা বলেছে। সখীপুর থানার ওসি ও কুতুপপুর ইউপির চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আনোয়ারকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় গৌরনদী থানার ওসিকে পুরো বিষয়টি অবহিত করে তাকে ইউপি চেয়ারমানের জিম্মায় দিয়ে আসা হয়েছে। নগদ ডিস্টিবিউটরের প্রায় ৫০ লাখ টাকার হিসাব নিকাশ দিতে না পেরে ম্যানেজার কাওছার খন্দকার আত্মগোপন করেছে বলে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে। তবে, নিখোঁজের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানা পুলিশ আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এসআই দেলোয়ার হোসেন জানান।