বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) হলে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে মূল বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার, তরুণ শ্রমশক্তি ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি বাংলাদেশের বড় সম্পদ। প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের প্রসঙ্গে তিনি চলতি বছর স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে দেশটিতে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এখনো ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম।
প্রধানমন্ত্রী মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে টয়োটার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে এ উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
জ্বালানি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধান শহরগুলোকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।
এ ছাড়া আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো ও করব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় সরকার।
মন্তব্য করুন