ঝালকাঠির রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য যোগদান করা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অশোভন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অন্তত ১০ ছাত্রীর অভিভাবক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর সোমবার বেলা ১১টার দিকে দশম শ্রেণির ক্লাসে ছাত্রীদের উদ্দেশে অশ্লীল, অপ্রাসঙ্গিক ও সম্মানহানিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি নিজের সম্পদের বিবরণ দিয়ে গর্ব করার অভিযোগ করা হয়েছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিভাবকদের দাবি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবর্তে শিক্ষক নিজের পারিবারিক সম্পদের বিবরণ এবং ছাত্রীদের চারিত্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর এসব বক্তব্য বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে এসে শিক্ষক তাঁর মোটরসাইকেল, আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, গাড়ি ও বরিশালে ফ্ল্যাট থাকার কথা বলেন। পাশাপাশি অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অশোভন আলোচনা করেন বলে তাদের অভিযোগ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এ ধরনের আচরণে শিক্ষার্থীরা ভীত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত অন্যত্র বদলির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগপত্রে দশম শ্রেণির অন্তত ১০ ছাত্রীর অভিভাবকের স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল অঞ্চলের উপপরিচালক এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী অভিভাবকেরা।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল্লাহ খান বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকে নবম ও দশম শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন। আগে গাইড বই থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি হতো, এখন বিদ্যালয়েই প্রশ্নপত্র তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আগে ক্লাস নিয়মিত হতো না, এখন নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে এবং ছাত্রীদের উপস্থিতিও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের নিয়ে কাজ করেছেন। এসব পরিবর্তনে কিছু শিক্ষক অসন্তুষ্ট। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং কিছু শিক্ষকই এ অভিযোগ করিয়েছেন।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’