ফ্রান্সে শিক্ষা খাতে অর্থায়ন, শিক্ষক সংকট ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন। র‍য়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন দেশজুড়ে আন্দোলনের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি দেখা যায়।

মার্সেই, নাঁতেস ও তুলুজে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও স্ট্রাসবুর্গ, লিওঁ ও রেনেসে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি এলাকায় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠনের দাবি, দেশের অর্ধেকেরও বেশি উচ্চবিদ্যালয় অবরোধ করা হয়েছে বা মঙ্গলবার বন্ধ রাখা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের উপকণ্ঠ থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংকট এবং জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষাখাতে সরকারের বাজেট পরিকল্পনা নিয়েও আপত্তি রয়েছে।

এর আগে সোমবার উত্তর ফ্রান্সের লঁস শহরে বিক্ষোভের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হয় এবং তার হাত ও বাহুর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় ঘটনাটি ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে শিক্ষক নিশ্চিত করা, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময় পর্যালোচনা, দুপুরের খাবারের জন্য বেশি সময় দেওয়া এবং পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কারের বিষয় রয়েছে।

সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই এ আন্দোলন চলছে। ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যয় কমানোর পরিকল্পনার কারণে শিক্ষাখাতে আরও অর্থায়নের দাবিও জোরালো হয়েছে।