গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থক সাংবাদিকদের নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘জুলাই জার্নালিস্ট ইউনিটি (জেজেইউ)’। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামান জেজেইউর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন। এতে ফেস দ্য পিপল-এর সম্পাদক সাইফুর সাগরকে আহ্বায়ক এবং চ্যানেল আইয়ের আহসান কামরুলকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা এবং জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জেজেইউর আহ্বায়ক সাইফুর সাগর বলেন, সময়ের প্রয়োজনেই সংগঠনটি গড়ে উঠেছে। জুলাইপন্থী সব সাংবাদিকের জন্য সংগঠনটি উন্মুক্ত থাকবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে রাখতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
সদস্য সচিব আহসান কামরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংবাদমাধ্যম প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে না পারলেও মানুষের কাছে এখনো গণমাধ্যমের প্রত্যাশা রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করতেই জেজেইউ গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই। তবে জুলাই গণহত্যাকারীদের পক্ষে যেন কেউ ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও আমরা কাজ করব।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান সাংবাদিকদের অন্যদের সমালোচনার পাশাপাশি আত্মসমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ইলিয়াস বলেন, সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ ও সমর্থন গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দলান্ধতার পরিবর্তে দেশের স্বার্থে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোকচিত্রী শহীদুল আলম বলেন, ভবিষ্যতে যাতে অতীতের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক থাকতে হবে। সরকার পরিবর্তন হলে সাংবাদিকদের যেন পালিয়ে যেতে না হয়, সেভাবেই নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জেজেইউর যুগ্ম আহ্বায়ক তালুকদার রুমি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক সাংবাদিক অতীতেও বঞ্চিত হয়েছেন, এখনও হচ্ছেন। জুলাইয়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংগঠনটি কাজ করবে।
অনলাইন বাংলার সম্পাদক ও জেজেইউর সদস্য খোমেনি এহসান বলেন, হামলা, মামলা বা চাকরিচ্যুতির হুমকি যেন সাংবাদিকদের কলম থামিয়ে দিতে না পারে, সেটিই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত মর্যাদা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন ও শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামসিয়ারা জামানও বক্তব্য দেন। তারা সংগঠনটির আত্মপ্রকাশকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ন্যায়বিচার ও মানবিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন—এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।
জেজেইউর আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন লুৎফর রহমান বাদল, তালুকদার রুমি, মাহমুদ রাকিব, আকতার হাবীব, শিমুল পারভেজ, রিয়াজুর রহমান রিয়াজ ও ইসরাফিল ফরাজী। যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন আবদুর রহিম, কেফায়েত শাকিল, নুরুল ইসলাম খান মামুন, ওবায়দুর রহমান, এ কে এম রেজাউল করিম, আশ্রাফ ফারুকী, নিজাম উদ্দিন দরবেশ ও রহমতুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। জেজেইউ নেতারা জানান, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা, পেশাগত অধিকার এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি কাজ করবে।
মন্তব্য করুন