কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। এতে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ, ভিটামিন ই ও ম্যাগনেশিয়াম। বর্তমানে আস্ত কাঠবাদামের পাশাপাশি এর তৈরি দুধও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চা-কফি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার হচ্ছে কাঠবাদামের দুধ। তবে আস্ত কাঠবাদামের তুলনায় এতে কি সমপরিমাণ পুষ্টি পাওয়া যায়—এ প্রশ্ন অনেকেরই।
কীভাবে তৈরি হয় কাঠবাদামের দুধ
কাঠবাদামের দুধ তৈরি করতে সাধারণত এক কাপ কাঠবাদাম সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। পরদিন ভেজানো বাদাম পানির সঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিশ্রণটি ছেঁকে নিলেই তৈরি হয় কাঠবাদামের দুধ।
তবে এই ছেঁকে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাদামের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কমে যায়। বিশেষ করে আঁশের বড় একটি অংশ ছাঁকনির সঙ্গে বাদ পড়ে যায়। একই কারণে আস্ত কাঠবাদামের তুলনায় কাঠবাদামের দুধে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণও কম থাকে।
ফলে শুধু পুষ্টিগুণের বিবেচনায় আস্ত কাঠবাদামই এগিয়ে।
তাহলে কাঠবাদামের দুধ কি খাওয়া যাবে না?
অবশ্যই খাওয়া যায়। অনেকের জন্য কাঠবাদামের দুধ ভালো একটি বিকল্প হতে পারে। বিশেষ করে যাদের দুধের চিনি বা ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়, তাদের জন্য উদ্ভিজ্জ দুধ উপযোগী বিকল্প হতে পারে। সাধারণত কাঠবাদামের দুধে ল্যাকটোজ থাকে না এবং অনেকের ক্ষেত্রে এটি সহজে সহ্য হয়।
তাই খাদ্যতালিকায় আস্ত কাঠবাদামের পাশাপাশি কাঠবাদামের দুধও রাখা যেতে পারে। চাইলে বাড়িতেও এটি তৈরি করা সম্ভব।
প্যাকেটজাত কাঠবাদামের দুধ কেনার সময় সতর্কতা
বাজার থেকে প্যাকেটজাত কাঠবাদামের দুধ কেনার সময় উপাদানের তালিকা ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। এতে বাড়তি চিনি বা অপ্রয়োজনীয় কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শুধু প্যাকেটের সামনের আকর্ষণীয় লেখা দেখে পণ্য কেনা ঠিক নয়।
অনেক প্যাকেটজাত কাঠবাদামের দুধে অতিরিক্ত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি যোগ করা থাকে। তাই কেনার আগে এসব পুষ্টি উপাদান রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে কাঠবাদামের দুধ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে এটি আস্ত কাঠবাদামের পুষ্টির পুরোপুরি বিকল্প নয়। বেশি প্রোটিন, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি পেতে চাইলে গোটা কাঠবাদামই তুলনামূলকভাবে ভালো পছন্দ।
মন্তব্য করুন