২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তা অনুমোদন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ মার্চ বাংলা প্রথম পত্র, ১৬ মার্চ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ১৮ মার্চ ইংরেজি প্রথম পত্র এবং ২১ মার্চ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আবশ্যিক গণিত পরীক্ষা হবে ২৫ মার্চ।

এরপর ৪ এপ্রিল রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ; ৮ এপ্রিল হিসাববিজ্ঞান এবং ১৩ এপ্রিল জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ১৫ এপ্রিল ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে।

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ২২ এপ্রিলের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করে নম্বর অনলাইনে পাঠাতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা

পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও সৃজনশীল বা রচনামূলক পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী ও ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ

পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।

ফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে অনলাইনে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।

জানুয়ারির সিদ্ধান্ত থেকে মার্চে পরীক্ষা

এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মতামত এবং পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে কি না—এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম শেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময় প্রয়োজন বলেও অনেকে মত দেন।

আগের ধারায় ফিরছে পরীক্ষার সময়

একসময় ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান এবং এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের রীতি ছিল। করোনাভাইরাস মহামারি ও পরবর্তী বিভিন্ন কারণে শিক্ষাপঞ্জিতে পরিবর্তন আসায় পরীক্ষার সময়ও পিছিয়ে যায়।

২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ধীরে ধীরে পরীক্ষার সময়সূচি আগের ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।