মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ এ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৩.৬৭ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৭ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ও সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। আজ সোমবার সকালে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে এসএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিগত সাত বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ফলাফল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড রাজশাহী কর্তৃক প্রকাশিত একনজরের ৭ বছরের তুলনামূলক পরিসংখ্যান থেকে এই চিত্র উঠে এসেছে।

​চলতি বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৩.৬৭ শতাংশ। অথচ গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৭৭.৬৩ শতাংশ এবং তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে তা ছিল ৮৯.২৬ শতাংশ। এমনকি ২০২০ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ এই ৭ বছরের মধ্যে এবারই পাসের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে পাসের হার ছিল ৯০.৩৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৯৪.৭১ শতাংশ, এবং ২০২২ সালে ৮৫.৮৮ শতাংশ।

​এ বছর বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১,৭৮,৯৬২ জন। যার মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১,৭৬,০৮৮ জন। পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন ২,৯০৮ জন এবং বহিষ্কৃত হন ১০ জন। মোট উপস্থিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১,১২,০৮৬ জন, যেখানে গত বছর পাস করেছিলেন ১,৩৯,৯৬৩ জন।

​অন্যদিকে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। ২০২৬ সালে বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোটে ১৬,১১৩ জন শিক্ষার্থী। এর আগের বছরগুলোতে এই সংখ্যা ছিল অনেক বেশি যেমন ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২,৩২৭ জন, ২০২৪ সালে ২৬,০৯৮ জন, এবং ২০২৩ সালে ২৬,৭৯৯ জন। চলতি বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রী ৮,৯৯১ জন এবং ছাত্র ৭,১২২ জন।

​পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, সার্বিক পাসের হারে ছাত্ররা পিছিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ এবং পাসের হার উভয় ক্ষেত্রেই ছাত্রীরা এবারও এগিয়ে রয়েছে। চলতি বছর উপস্থিত মোট ৮৩,২৭৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৭০.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, উপস্থিত ৯২,৭৭৩ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৫৭.৩৩ শতাংশ।

​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলেও এসেছে বড় অবনতি। চলতি বছর শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৫টিতে, যা গত বছর ছিল ৯৯টি এবং তার আগের বছর (২০২৪ সালে) ছিল ২৮৯টি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এ বছর ৫টি স্কুল থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি (০% ফলপ্রাপ্ত স্কুল), যেখানে গত বছর বা তার আগের বছরগুলোতে শূন্য ফলাফল প্রাপ্ত স্কুলের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল।

এছাড়া ০ থেকে ১০ শতাংশ পাসের হার রয়েছে এমন স্কুলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে। এ বছর রাজশাহী বোর্ডে ২৯৮টি কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় এবং মোট স্কুল ছিল ২,১৭৩টি।