প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে আরও সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি শিশুদের প্রতি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং গাছের পরিচর্যার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একযোগে প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
উপস্থিত শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট্ট বন্ধুরা, তোমরা চেষ্টা করবে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে। সেটি তোমাদের স্কুলে হোক কিংবা বাসার আশপাশে—যেখানেই সুযোগ পাও, একটি করে গাছ রোপণ করবে।”
তিনি বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ সম্পর্কে জানতে হবে। একটি গাছ কতটা অক্সিজেন উৎপাদন করে, মানুষের ও পরিবেশের কী উপকারে আসে—এসব বিষয়ে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জানার চেষ্টা করবে। এতে প্রতি বছর একটি নতুন গাছ সম্পর্কে তোমাদের জ্ঞান বাড়বে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়ে রোপণ করা গাছ বড় হলে তা শিক্ষার্থীদের ছায়া দেবে এবং বিশ্রামের স্থান হবে। একইভাবে বাড়ির আশপাশে গাছ লাগালে পরিবেশ হবে শীতল, নির্মল বাতাস পাওয়া যাবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।
আজকের দিনটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “আজ একটি স্মরণীয় দিন। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশের মাটিতে একসঙ্গে অসংখ্য গাছ রোপণ করছি। আমাদের দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।”
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রাণ-প্রকৃতি বিষয়ক শিশু শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন