৪ দশক পর ফিরছে গ্রাম..
প্রকাশ: 31 October 2026 । 18:48 | আপডেট: 31 October 2026 । 18:50
অনলাইন ডেস্ক
চার দশকের বেশি সময় পর আবারও কার্যকর হতে যাচ্ছে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে খসড়া আইনের বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন নাগরিকরা।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ই-মেইল ঠিকানায় মতামত পাঠাতে হবে। নাগরিকদের মতামত পাওয়ার পর খসড়াটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
নতুন গ্রাম সরকার ব্যবস্থা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করবে। পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, কুটিরশিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্বও থাকবে গ্রাম সরকারের।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের প্রস্তাব ওঠে। ২০০৯ সালে রহিত হওয়া ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার আইন পরিমার্জন করে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
নতুন খসড়ায় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কয়েকটি দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণে সহায়তা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্যক্রমে সহযোগিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করা।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনকর্মী সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, গ্রাম সরকার ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ ব্যবস্থায় সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে। আইন মেনে পরিচালিত হলে জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিমুখতা দূর হতে পারে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সংসদে পাস হওয়ার পরই সরকার এটি বাস্তবায়নে যেতে পারবে। কত দ্রুত কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়ায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে থাকবেন একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য। সব মিলিয়ে সদস্যসংখ্যা হবে ১৭।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হবেন। বাকি ১৫ সদস্যকে ওয়ার্ডের ভোটারদের অংশগ্রহণে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নের প্রায় ৪১ হাজার ওয়ার্ডে এ ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় সাত লাখ স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে গ্রাম সরকার গঠিত হবে।
খসড়া অনুযায়ী, গ্রাম সরকার প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার সভা করবে। প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা আয়োজন করতে হবে। এসব সভায় ওয়ার্ডের ভোটারদের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য কমিটি এবং প্রয়োজনে উপকমিটি গঠনের বিধানও রাখা হয়েছে।
গ্রাম সরকারের জন্য পৃথক তহবিল থাকবে। ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম সরকারের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারবেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক তদন্তের পর প্রয়োজন মনে করলে গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
গ্রাম সরকারের ইতিহাস
দেশে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
১৯৮০ সালের আইনের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থাটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম অংশ ছিল গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
তবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। পরে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালে ‘স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ) আইন’ করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ প্রণয়ন করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি বাতিল করা হয়।
সূত্র: বাসস
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.