সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ ধরা..

প্রকাশ: 15 October 2026 । 13:55 | আপডেট: 15 October 2026 । 13:55

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে বিশেষ ‘বিষ শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি’ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আগামী বছর থেকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে। ল্যাবরেটরিটি স্থাপিত হলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষ প্রয়োগের অপরাধ প্রমাণ করা সহজ হবে বলে আশা করছে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিষাক্ত রাসায়নিক পরীক্ষা ও শনাক্তকরণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে। শিগগিরই এটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও দ্রুত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় আদালতে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। উপযুক্ত পরীক্ষার কিট ছাড়া জব্দ করা মাছ বিষাক্ত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে অনেক অভিযুক্ত ছাড়া পেয়ে যান।

বন বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের ঘটনায় ৭৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৭৪ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ৮৭ বোতল ও ২ লিটার বিষ, ২৪৩ দশমিক ৫ কেজি চিংড়ি, ২১০ কেজি সাদা মাছ, ৭৩৬ কেজি কাঁকড়া, ১৪৪টি নৌকা ও ১২৫টি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ল্যাবরেটরির পাশাপাশি দ্রুত পরীক্ষার জন্য কিটও সরবরাহ করা হবে। কারণ, মাছের শরীরে প্রয়োগ করা বিষ বেশিক্ষণ স্থায়ী না হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরীক্ষা না করলে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেন, আপাতত বিদেশ থেকে পরীক্ষার কিট আমদানি করা যেতে পারে। পাশাপাশি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনকে দ্রুত পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে বিষাক্ত পানি ছড়িয়ে পড়লে জলজ পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীদের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ড. সুজাত আহমেদ সতর্ক করে বলেন, বিষাক্ত বা রাসায়নিকযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে মানবদেহে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর বিভিন্ন জটিল রোগের আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, জলজ জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত বিষ শনাক্তকরণ ল্যাবরেটরি স্থাপন জরুরি।

সূত্র: বাসস

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!