ডিজিটাল নজরদারিতে শাহজালাল বিমানবন্দর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ । ১৬:০৩ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২৬ । ১৬:০৩

ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-

গুরুতর অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে অপরাধীর একটি ছবি থাকলেই দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে শনাক্ত করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরা।

শনাক্ত হওয়ার পরপরই নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে যাবে সতর্কবার্তা।

শুধু বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নয়, বিদেশ থেকে অপরাধ করে দেশে ফেরা কিংবা অবৈধ মালামাল ও সোনা চোরাচালানের চেষ্টা করলেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ কমছে। বিমানবন্দরজুড়ে বসানো হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারে ব্যবহার করা হচ্ছে এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম এবং উচ্চ সংবেদনশীল ‘গোল্ড ডিটেকশন’ প্রযুক্তি।

সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্র বলছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধ করে কোনো ব্যক্তি ভিন্ন পরিচয়ে কিংবা পরিচয় গোপন করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করলে তার একটি ছবি বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে দিলেই প্রযুক্তি কাজ শুরু করবে। বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপার্চার টার্মিনাল, বোর্ডিং ব্রিজ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার ও কার্গো ভিলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে হাই-টেক এআই ক্যামেরা।

এসব ক্যামেরা যাত্রীর মুখমণ্ডল শনাক্ত করে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে। কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘অ্যালার্ট’ পাঠানো হবে।

শুধু অপরাধী শনাক্ত নয়, বিমানবন্দরে কোনো ব্যক্তির অস্বাভাবিক আচরণও শনাক্ত করতে পারবে এআই-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করলে কিংবা বিমানবন্দরে কোনো পরিত্যক্ত বস্তু পড়ে থাকলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সতর্ক করতে পারবে।

সোনা চোরাচালানে নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা। তরল, পেস্ট কিংবা শরীরের বিভিন্ন অংশে সোনা লুকিয়ে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে শাহজালাল বিমানবন্দরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ‘গোল্ড ডিটেকশন’ প্রযুক্তি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামাকাপড় কিংবা শরীরে লুকিয়ে রাখা ক্ষুদ্র ধাতব বস্তু শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি কার্যকর। ফলে সাধারণ যাত্রীদের অযথা হয়রানি না করে সন্দেহজনক মালামাল শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বলেন, বিমানবন্দরে কর্মরত সরকারি সংস্থাগুলো নিজস্ব অর্থায়নে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিনে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি বেবিচকের নিজস্ব ‘এভসেক’ সিকিউরিটিও সতর্ক রয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট ব্যবহারের ফলে গত দুই থেকে আড়াই বছরে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, অপরাধী ও চোরাকারবারিদের ধরতে বিমানবন্দরে নিয়োজিত সংস্থাগুলো হাই-টেক ইকুইপমেন্ট দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।

প্রকাশকঃ  সানজিদা রেজিন মুন্নি।

সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭

মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com

ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.

error: Content is protected !!