মডেল মসজিদগুলোর নির্মাণ ব্যয়ের তদন্ত..
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ । ১০:৫৬ | আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ । ১০:৫৬
ষ্টাফ করেসপন্ডেন্ট:-
সারা দেশে নির্মিত মডেল মসজিদগুলোর প্রকল্প ব্যয় ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নের সার্বিক বিষয় তদন্তে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংসদকে জানান, ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপপ্রচার ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিশেষ করে সারা দেশে তরুণসমাজকে ইসলামের প্রকৃত শান্তির বাণী ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদের অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে সংসদে প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে সরকারদলীয় সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক জানতে চান, নতুন মডেল মসজিদ নির্মাণের চেয়ে আগে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও নির্মাণমান তদন্ত করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, যেসব মডেল মসজিদ নির্মাণে শুরুতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল, সেগুলোর ব্যয় পরে ২১ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মসজিদে নির্মাণ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তাঁর নির্বাচনী এলাকার সেনবাগের মডেল মসজিদে পানি পড়ার কারণে সেটি ব্যবহার করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও নিজের নির্বাচনী এলাকার একটি মডেল মসজিদের নির্মাণসংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দুর্গাপুরে একটি মডেল মসজিদের সামনে বড় একটি পুকুর থাকায় সেখানে যেতে সেতু নির্মাণের প্রয়োজন। স্থানীয়রা মসজিদটির নাম দিয়েছে ‘তাজমহল’। কিন্তু অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে সেটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। মডেল মসজিদ নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ হলেও প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন যথাযথ হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একটি মসজিদের নির্মাণ ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে কিভাবে ২১ কোটিতে উন্নীত হলো, সারা দেশে মোট কতটি মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে কত ব্যয় হয়েছে এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণ কী, এসব বিষয় তদন্ত করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মডেল মসজিদগুলোর সব প্রকল্পের ব্যয়, নির্মিত মসজিদের সংখ্যা এবং প্রতিটি মসজিদভিত্তিক ব্যয়ের বিষয় তদন্তের জন্য আজই মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারের অন্যান্য সংস্থাকেও এ তদন্তে সম্পৃক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পে ব্যয় ও সময় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তাই মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়নও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
ধর্মীয় উগ্রবাদ রুখতে নানা উদ্যোগ : অধিবেশনে স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা জানতে চান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সরাইল-আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার আংশিক এলাকায় ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে তরুণদের জন্য সচেতনতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা এবং সম্প্রীতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে? জবাবে মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের লক্ষ্য সামাজিক শান্তি, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ন রাখা। এ উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বহুমুখী সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপির পরামর্শ ও সহযোগিতায় ভবিষ্যতে যুবসমাজের জন্য নৈতিক শিক্ষা, ধর্মীয় সচেতনতা ও সামাজিক সম্প্রীতিবিষয়ক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে বিভিন্ন ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টও নিজ নিজ পরিসরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারি দলের এমপি খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের চলমান কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে সম্মানী দেওয়া হয়েছে।
একদলীয় শাসনের আশঙ্কা নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের কার্যপরিধি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কোনো চেষ্টা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনী এলাকা নেই। সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের কার্যপরিধি পুরো বাংলাদেশ।
সোমবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধী দলের এমপি আখতার হোসেন বিষয়টি উত্থাপন করলে তাঁর জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পয়েন্ট অব অর্ডারে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এক সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি বক্তব্যে দুটি সংসদীয় আসনকে তাঁর ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে না পড়লেও বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্য এবং অতিরিক্ত ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য নিয়ে গঠিত। সাধারণ আসনের সদস্যদের জন্য সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যপরিধি সমগ্র বাংলাদেশ। তাঁরা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিনিধি নন। তাই কোনো সদস্য যদি নিজেকে একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করেন, সেটি সঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ রোমান চৌধুরী।
প্রকাশকঃ সানজিদা রেজিন মুন্নি।
সম্পাদকঃ কামরুজ্জামান বাঁধন।
নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ জালাল উদ্দিন জুয়েল।
মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৫৭২৬৩, ০১৭১২-৮৩১৪৪৭
মেইলঃ rhbnews247@gmail.com, CC: rhbnews.nd@gmail.com
ঢাকা অফিসঃ এ্যাড পার্ক, ওয়াজী কমপ্লেক্স (৯ম তলা), ৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা -১০০০.