উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনিভূত হয়ে প্রথমে নিম্নচাপ ও পরে গভীর নিম্নচাপে পরিনত হয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত একটানা থেমে থেমে মাঝাড়ি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। উপকূলের নদ-নদীতে পানির উচ্চতা বেশ কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ভাড়ি বৃষ্টির চাপও বিদ্যমান রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কবলে পরেছে কুয়াকাটা আগত পর্যটক দর্শনার্থীরা। পর্যটন নগরীর দর্শনীয় স্পট গুলোতে দেখা গেছে নিরবতা। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে উৎসুক কিছু পর্যটকরা উত্তাল সমুদ্রের দৃশ্য উপভোগ করছেন। বেকার সময় কাটছে ব্যাবসায়ীসহ ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশেষ কারন ছাড়া ঘড়ের বাইরে অথবা বাজার-ঘাটে বেড় হতে দেখা যায়নি। কুয়াকাটা উপকূল জুরে এক সুনশান পরিবেশ বিরাজ করছে। ঐদিকে রিতিমতো বড় কোনো দূর্ঘটনা এড়াতে দিন ও রাতে একটানা বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করেছেন পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। তবে গ্রাহকরা এর মধ্যেও কিছু সময় বিদ্যুত সেবা পেয়েছে বলে জানা যায়। সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ কুয়াকাটার সৈকতে আছড়ে পড়ছে।
উত্তাল বঙ্গোপসাগরে প্রচন্ড ঢেউয়ের তোরে ৭টি মাছ ধরা ট্রলার নিমজ্জিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ট্রলারের জেলেদের অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করে আড়ৎ ঘাটে নিয়ে আসেন বলে মৎস্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা জানান। উত্তাল সমুদ্রে প্রচন্ড তান্ডবে টিকতে না পেরে মাছ ধরা ট্রলার নিয়ে জেলেরা মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর আড়ৎ ঘাট শিববাড়িয় নদী সহ বিভিন্ন পয়েন্টে আশ্রয় নিয়েছে। ফিরে আসা এসব জেলেদের চোখে-মুখে রয়েছে হতাশার ছাপ।
মহিপুর ও আলীপুর আড়ৎ ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক সমুদ্রগামী মাছ ধরার ট্রলার আড়ৎ ঘাটে এসে নোঙ্গর করছে। তীরে আসা জেলেরা জানান, ইলিশ পাবার আশা নিয়ে গভীর সমুদ্রে গিয়ে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে গেছে । ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে টিকে থাকাই দায়। তাই কেউ জাল না ফেলে আবার কেউ জাল তুলে তীরে এসেছেন।
মহিপুর মৎস্য আড়দ মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজা মিয়া জানান, আজকে সাগর আকর্ষিক উত্তলে কত ট্রলার সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। আমার জানামতে ৭ টি ট্রলার নিমজ্জিত সব জেলে উদ্ধার।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে বিচরণশীল সকল মাছধরা ট্রলার সমূহকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে (১ আগষ্ট ) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নিকট দিয়ে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করে এবং বর্তমানে দেশের খুলনা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় স্থল গভীর নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এতে বঙ্গোপসাগর প্রবল উত্তাল রয়েছে।
পরবর্তী ৪৮ ঘন্টা একটানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এটি আরো উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই দেশের সকল সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।