গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকায় কয়লা তৈরির একটি কারখানাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কারখানাটির বৈধ অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ তুলে পরিবেশদূষণ বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, এর আগে প্রশাসনের অভিযানে কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ আবারও এটি চালু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ১০টি চুল্লিতে দিনরাত কাঠ ও গাছের গুঁড়ি পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষক রাজা মিয়া বলেন, কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাসিন্দা গোলাপী বেগম বলেন, দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। শিশুরা কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। কিন্তু কারখানার মালিক তাদের অভিযোগে কর্ণপাত করছেন না।

স্থানীয় যুবক রাসেল ইসলাম বলেন, কারখানাটির কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর দাবি, কারখানাটির বৈধতা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।