বঙ্গোপসাগরে গত দুই মাস যাবৎ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। সরগরম নেই কুয়াকাটা-আলীপুর-মহিপুর মৎস্য পল্লীতে। মাঝে মধ্যে দুই একটি ট্রলার অল্প কিছু মাছ পেলেও বেশিরভাগই ট্রলার সমুদ্র থেকে ফেরে শুন্য হাতে। ফলে উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে চলছে হাহাকার। ঋণের বোঝায় দিশেহারা কলাপাড়ার অত্যন্ত ৩০ হাজার জেলে পরিবার।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে মৎস্য পল্লী ঘুরে দেখা যায়, মৎস্য আড়তগুলোতে আগের মতো কর্মব্যস্থতা নেই। ঘাটের বয়স্ক শ্রমিকরা বেকার বসে আছেন। পাইকারী ব্যবসায়ীরা চায়ের দোকানে বসে গল্প আড্ডায় সময় পার করছেন। জেলেরা পুরানো জালের ছিড়া-ফাড়া বুনছেন। আড়দের মালিকরা ব্যবসার লাভ ক্ষতি হিসাব কষছেন। এক কথায় কর্মব্যস্ত মাছবাজারের মানুষগুলো কর্মহীন অবস্থায় সময় পার করছেন। এমন চিত্র আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের। খাপড়াভাঙ্গা নদীর পাশের একটি মৎস্য আড়দে পুরানো জাল বুনছেন কয়েকজন জেলে। কথা হয় তাদের সাথে। তারা জানান, প্রচ- গরমে সাগরে মাছ নেই। বৃষ্টি না হলে সাগরে গিয়ে লাভ নেই। গত দুই মাসে ৫ বার সাগরে গিয়ে শুন্য হাতে ফিরে এসেছেন। প্রতিবারই বাজারের টাকা লোকশান হয়েছে। তাই এখন সাগরে না গিয়ে পুরানো জাল বুনছেন। মাছের দেখা মিললে সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাবেন তারা।

মৎস্য শ্রমিক জলিল প্যাদা বলেন, গত দুই মাস ধরে মাছ খুবই কম। ট্রলার ঘাটে আসলে কিছু সময় কাজ থাকে। দিনের বেশিরভাগ সময় অলস থাকতে হয়। আয় কম, সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
ধুলাসার ফিসের মালিক আবু জাফর হাওলাদার বলেন, সমুদ্রে মাছ কম। বাজার সওদা করে ট্রলার সাগরে পাঠাই, ফিশিং শেষে শুন্য হাতে ফিরে আসে। গত মাসে আমার সাড়ে ৮ লাখ টাকা লোকশান হয়েছে।
আলীপুরের বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী মনি ফিসের মালিক আব্দুল জলিল ঘরামী বলেন, আমার আড়দে গত কয়েক বছর দৈনিক যে মাছ উঠছে তা পুরো মৌসুমে আসে নাই। ব্যবসার অবস্থা ভালো না। অন্য ব্যবসার চিন্তা করছি। তিনি আরো বলেন, যে হারে বৈধ-অবৈধ টলিং সমুদ্রে মাছ শিকার করছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মাছই থাকবে না। টলিং জালে সমস্ত মাছের পোনা মারা যাচ্ছে। আমাদের সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে অবৈধ ট্রলিং জাল বন্ধ করতে হবে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ইলিশ মাছ হচ্ছে গভীর সমুদ্রের মাছ। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রচন্ড গরম, অনাবৃষ্টির কারণে মাছ কম পানিতে আসছে না। তাই কুয়াকাটার উপকূলে কম ইলিশ ধরা পরছে। আশা করছি আবহাওয়া পরিবর্তন হলে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পরবে। তিনি আরো বলেন, কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্রে দীর্ঘ ডুবোচর থাকায় রামনাবাদ, আগুনমুখা, আন্ধারমানিক ও বলেশ্বর মোহনায় ইলিশের আনাগোনা কমে গেছে।
মন্তব্য করুন