পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব রজপাড়া গ্রামে সরকারি খাল থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করায় জন গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়ক ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও ভাঙ্গন শুরু হয়েছে পার্শ্ববর্তী আরো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ঐ রাস্তায় ফাটল ধরে হেলে পড়েছে। এরফলে আতঙ্কে রয়েছে উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব রজপাড়া খালের দুই পাড়ের বসবাসকারী বাসীন্দারা। গত বছর সরকারী খাল থেকে মাটি বিক্রির পর মাছ চাষ করে সানী এবং ফেরদাউস নামের দুই প্রভাবশালী। তবে লেনদেন নিয়ে তাদের বিরোধ থাকায় গত কদিন ধরে বাঁধ দেওয়া খালের পানি সেচ করে মাছ ধরে নিয়ে যায় ফেরদাউস। কিন্তু গতকাল স্থানীয়রা সড়কে ফাটল দেখে পানি সেচে বাঁধা দেয়। তাদের কথা না শুনে পুনরায় সেচ করলে প্রায় ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট উচ্চতা নিয়ে খালের মধ্যে পিচঢালা সড়কটি ভেঙ্গে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ মিয়া বলেন, রাত তিনটার দিকে একটা শব্দ পাই এখানে এসে দেখি রাস্তাসহ বিশাল এলাকা নিয়ে খালের মধ্যে ভেঙ্গে পড়ে গেছে। এছাড়া আরো অনেকক্ষণি নিয়ে ফাটল ধরেছে। তা যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে। আমরা এই খালের পারের অনেকগুলো পরিবার আতঙ্কে আছি। পানি সেচের কারনেই এটা হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী এর প্রতিকার চাই।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস বলেন, আমি ঢাকায় আছি,আমি সানীর কাছে টাকা পাবো তাই আমার লোকজন দিয়ে ঐ খালের মাছ ধরিয়েছি। তবে এর কারনে রাস্তা ভাংছে কিনা তা আমি জানিনা।

আরেক অভিযুক্ত সানী বলেন, আমি মাসুদকে বলেছি এ খালের পানি সেচলে রাস্তা ভেঙ্গে পড়তে পারে, তারপরও সে আমার কথা না শুনে পানি সেচ করে মাছ ধরছে। এ রাস্তা ভেঙ্গে পড়ার জন্য দায়ী ফেরদৌস।

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ বলেন, আমি এখানে এসে দেখি অবৈধভাবে সরকারি খালের মাটি কেটে নেয়ায় এ সড়কের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।