আন্তর্জাতিক বাজারে সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে ওঠার পর স্বর্ণের দাম কমছিল। একপর্যায়ে ব্যাপক দরপতন ঘটেছিল নিরাপদ আশ্রয় ধাতুটির। তবে আবারও স্বর্ণের দর বাড়তে শুরু করেছে। শুধু বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ ধাতুটির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১ শতাংশের বেশি। আগের কার্যদিবসেও দাম বেড়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, সুদের হার বৃদ্ধি চক্রের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। ফলে দেশটির মুদ্রা ডলারের মান কমেছে। সেই সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড নিম্নমুখী হয়েছে। ফলে স্বর্ণের দাম বাড়ছে।
আলোচ্য কর্মদিবসে স্পট মার্কেটে বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দর ঊর্ধ্বগামী হয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য স্থির হয়েছে ২০০৪ ডলার ৭৯ সেন্টে। আগের দিন বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। আউন্সপ্রতি দাম নিষ্পত্তি হয় ১৯৭৮ ডলার ৬৮ সেন্টে।
আলোচিত দিনে ফিউচার মার্কেটে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দামে উত্থান ঘটেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের দর স্থির হয়েছে ১৯৯৭ ডলার ৩০ সেন্টে। আগের কর্মদিবসে তা ছিল ১৯৯৩ ডলার ২০ সেন্টে।
বুধবার সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে ফেড। ইউএস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৭ থেকে ১৮ কর্মকর্তা অনুমান করছেন, ২০২৪ সালের শেষদিকে এখনকার চেয়ে সুদহার কমবে। ফলে বুলিয়ন বাজার আরও চাঙা হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর আউন্সে স্বর্ণের দাম উঠেছিল ২১৩৫ ডলার ৪০ সেন্টে। বিশ্ব ইতিহাসে যা ছিল সর্বকালের সর্বোচ্চ। ফেডের সুদহার কমানোর আভাসে এই ঊর্ধ্বমুখিতা তৈরি হয়। তবে কোন সময়ের মধ্যে কমাবে তা নিশ্চিত নয়। ফলে সেদিন থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মূল্যবান ধাতুটির মূল্য হ্রাস পায় প্রায় ১৫০ ডলার। পরে ১০ ডিসেম্বর থেকে আবারও বাড়ছে।
বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হাই রিজ ফিউচার্সের ধাতু ব্যবসার পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, ফেড স্বীকার করেছে মূল্যস্ফীতি কমছে। তাতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা জেগেছে। ফলে ইল্ড ও ডলারে নাটকীয় পতন দেখা যাচ্ছে। সঙ্গত কারণে স্বর্ণ ও রুপার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্তব্য করুন