দেশে রাজনৈতিক বর্তমান প্রেক্ষাপটে হুমকিতে পরেছে অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত। বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধের তৃতীয় দিনেও পর্যটক শূন্য পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা তিনদিন কুয়াকাটা পর্যটন নগরীতে রয়েছে সুনশান নিরবতা। খালি পড়ে আছে সৈকতে রাখা ছাতা বেঞ্চি। অলস সময় পার করছেন মটর বাইক, ফটোগ্রাফার, স্পিড বোড চালক, ঝিনুক-আচার, ফিশ-ফ্রাই ব্যবাসী সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। বুকিং ছিলনা হোটেল মোটেলের ৯৫% কক্ষ। মৌসুমের শুরুতেই সৈকত এভাবে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
এর আগে চলতি মাসের ২৮ অক্টোবর বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ১ দিনের হরতালে তেমন পর্যটকের আনাগোনা ছিল না কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় হামুনের প্রভাবেও বাধাগ্রস্ত হয় পর্যটন খাত।
এবার মঙ্গলবার থেকে বিএনপির ডাকা টানা তিনদিনের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে মৌসুমের শুরুতেই ধাক্কা লেগেছে পর্যটন শিল্পে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের পর্যটন নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে। তিনদিনের টানা অবরোধ কর্মসূচিতে অভ্যন্তরীন রুটে গনপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও কুয়াকাটা থেকে প্রথম দিনে দূরপাল্লার ৯টি ও দ্বিতীয় দিনে ১৩টি ট্রিপ ছাড়া হয় নির্ধারিত সময়ে রাত ১০ টায়।
তৃতীয় দিন সকাল থেকে রিতিমতো চলাচল শুরু করে সকল বাস। শুরু থেকেই পর্যটকসহ সাধারন মানুষের নিরাপত্তায় প্রতিটি বাসে দুইজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানা যায়। সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে পুলিশ সদস্যরা।
পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় পর্যটকদের সেবা দানে রয়েছে প্রায় হাজারো মটর বাইক, সৈকতে দের শতাধিক রয়েছে ঝিনুক ব্যবসায়ী, দুই শতাধিক ফটোগ্রাফার, আচার, শুটকি, ফিস-ফ্রাই, চা-পান, ডাব, সী-বোট, স্পীডবোট, ইজিবাইক, বীচ বাইক, ওয়াটার বাইক, ঘোড়া ব্যবাসী সহ কয়েক হাজার ব্যবসায়ীরা পরেছে আর্থিক লোকসানের মুখে। টানা অবরোধ কর্মসূচিতে সংস্লিষ্ট মানুষ গুলো অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন পার করেছেন।
বেঞ্চ ব্যাবসায়ী সাহিন বলেন, জামাত বিএনপির অবরোধের কারনে পর্যটক নেই, মারা পরছি আমরা সাধারন ব্যবসায়ীরা। গাড়িঘোড়া যা চলে তা বিএনপির ডাকা হরতালের কারনে বাসে লোকজন তেমন উঠেনা।
মহিপুর সুগন্ধা পরিবহনের কাউন্টার পরিচালক মো: ছিদ্দিক মোল্লা জানান, লোকাল বাস ঠিকঠাক মতো চল্লেও দুরপাল্লা বাস তেমন চলেনি।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকরা যখন কোনো দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যান তখন সবার আগে তারা যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের যে পরিস্থিতি শুরু হয়েছে তাতে কোন পর্যটকই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া আগামী দিনে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে বের হবে না। এর প্রভাব পরবে পর্যটন নগরী কুয়াকাটায়ও।
হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরীফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট চলতে থাকলে আমরা অচিরেই পথে বসে যাব।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, কুয়াকাটায় গত তিনদিনে তেমন কোনো পর্যটকের সমাগম ছিলনা। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।